হেসো না বন্ধু! আমার আমি সে কত অতল অসীম,
আমিই কি জানি-কে জানে কে আছে আমাতে মহামহিম।

হয়ত আমাতে আসিছে কল্কি, তোমাতে মেহেদী ঈসা,
কে জানে কাহার অন্ত ও আদি, কে পায় কাহার দিশা?
কাজী নজরুল ইসলাম

২ কিন্তু হুকুশ পাকুশ কেন প্রোগ্রামিং করবে?

তুমি কি হ্যারি পটার দেখেছো হুকুশ পাকুশ? মনে আছে যখন হ্যারি পটার আলোহমোরা বলে তখন ঠুশ করে তালা খুলে যায়? উইংগারদিয়াম লেভিওসা বললে হাতি পর্যন্ত উড়তে থাকে? প্রোগ্রামিং অনেকটা ওরকম। তুমি যখন প্রোগ্রামিং শিখে যাবে, তখন এমন অনেক কিছু করতে পারবে তুমি হিজিবিজি হিজিবিজি বলে যেগুলো অন্য মানুষগুলো কখনো কল্পনাও করতে পারবে না করার।

কিন্তু আসল মজা হচ্ছে প্রোগ্রামাররা পৃথিবী বানাতে জানে। তুমি কম্পিউটারে যা কিছু দেখছো তোমার স্ক্রিনে সব কিছু প্রোগ্রামারদের বানানো। তোমার অপারেটিং সিস্টেমটা, তোমার গান শোনার অ্যাপ, তোমার লেখালেখি করার নোটপ্যাড, ছবি আঁকার পেইন্ট, তোমার ফেইসবুকটা, ফটোশপ, তোমার ডোটা কিংবা বেলুন ফোটানোর গেম - সব কিছুই প্রোগ্রামারদের লেখা। তুমি যখন তোমার ফোনটা হাতে নিচ্ছো, যখনই কম্পিউটারে বসছো আর ইন্টারনেটে ঢুকছো তোমার বন্ধুদের খোঁজ নিতে, তখন তোমার চারপাশের পুরো পৃথিবীটাই প্রোগ্রামারদের বানানো।

সে কারণে প্রোগ্রামিং এর মধ্যে প্রচন্ড সৃষ্টি-সুখ আছে। একটা খালি পাতা ভরে গুটিশুটি ছবি আঁকার মতো। একটা নিশ্চুপ পথকে গুনগুন করে গান শোনানোর মতো। বাক্স কেটে গাড়ি বানানোর মতো। ফেলে দেয়া খবরের কাগজকে ঘুড়ি বানিয়ে সেটাকে ঝিরঝির শব্দ করে আকাশে উড়তে দেখার মতো।